Tag: সংস্কৃতি

  • রাষ্ট্র ও গণশরীর: পর্ব ২

    রাষ্ট্র ও গণশরীর: পর্ব ২

    ১.২  দ্বিতীয়ত, দ্বৈত সত্তা ব্যক্তি ও সমাজে স্ট্রেস তৈরি করে। মসজিদে ঢোকার সময় প্যান্ট বটানো, মসজিদ থেকে বের হবার সময় সচেতনভাবে প্যান্ট ঠিক করা- এই অন্তঃব্যক্তি সত্তা-বদলের বহুল চর্চিত উদাহরণ। এটা বুঝার আগে স্ট্রেস ব্যাপারটা বুঝা দরকার। বিজ্ঞানী ল্যাজারাসের transactional stress theory মতে স্ট্রেসের সংজ্ঞা হল: পরিবেশ ও মানুষের মাঝে এমন একটা সম্পর্ক, যখন মানুষ…

  • আমার পূর্বপুরুষ

    আমার পূর্বপুরুষ

    ইসলামের জন্য আমাদের পূর্বপুরুষদের অবদান স্মরণ করা আসাবিয়াত না। কোন গোত্র দীনের জন্য কেমন অবদান রেখেছে, এটা পরবর্তীদের জন্য উদাহরণ ও বুকে সাহসের খোরাক। আপনাদের প্রত্যেকের পূর্বপুরুষ হয় আরব (নেয়াখালি, চট্টগ্রাম, সিলেট, উত্তরবঙ্গের নদী তীরবর্তী), নয় তুর্কীয়-ইরানী-আফগান,(ইসলামের সেনা হিসেবে এসেছে), নয়তো ভূমিপুত্র ফরায়েজী (মধ্য ও দক্ষিণবঙ্গ), ভূমিপুত্র হেদায়েতী (নদীয়া-দক্ষিণবঙ্গ), ভূমিপুত্র মুহাম্মদী (বালাকোটী)। আল্লাহ আমাদের মু’মিন…

  • ফ্যাশিবাদের প্রেতাত্মা

    ফ্যাশিবাদের প্রেতাত্মা

    হাসিনা যদি প্রেতিনী (>পেত্নী) হয়, তবে প্রেতাত্মাটি হল বাঙালি জাতীয়তাবাদ। বাঙালি জাতীয়তাবাদ হল মৌলিকভাবে হিন্দুত্ববাদ। গণঅভ্যুত্থানে অনেক কওমিছাত্রদেরও দেখেছি ক্ষুদিরাম, সূর্যসেন, প্রীতিলতাদের নিয়ে আদিখ্যেতা করতে। অথচ এরা ছিল হিন্দুত্ববাদী। বৃটিশের বিরুদ্ধে এরা লড়ছিল কারণ বৃটিশ মুসলিমদের উন্নতির জন্য বঙ্গভঙ্গ করেছিল। ফলে কলকাতা-নিবাসী হিন্দু জমিদারদের খাজনা ইত্যাদিতে অসুবিধা হচ্ছিল। প্রধান শত্রু ছিল মুসলিমরা। বৃটিশরা মুসলিমদের পক্ষে…

  • মুসলিম সুলতানরা কি বহিরাগত?

    মুসলিম সুলতানরা কি বহিরাগত?

    রাজা বাদশাহের নাম মুসলমান নাম দেখলেই ‘বহিরাগত’ ভাবার প্রবণতা পাশের দেশের একটি দলের (বিজেপি) নির্দিষ্ট রাজনৈতিক এজেন্ডা। সুকুমারী ভট্টাচার্য বলেন, “প্রায়ই শোনা যাচ্ছে, ভারতবর্ষে মুসলমান বহিরাগত এবং যেহেতু পাকিস্তান ইসলামিক রাষ্ট্র সেহেতু ভারতবর্ষের মুসলমানদের উচিত পাকিস্তানে চলে যাওয়া। নতুবা, ভারতবর্ষে নেহাতই যদি তাঁরা থাকতে চান তো দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক ও ‘অভারতীয়’ সংজ্ঞা বহন করে চলতে…

  • মুসলিমবঙ্গের জমিদারগণ

    মুসলিমবঙ্গের জমিদারগণ

    ৩৩৩ জনের মধ্যে ৩৪ জন মুসলিম (১০%)। ৯০% জমিদার হিন্দু। সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ ৮০% ছিল মুসলিম। রেখে দিলাম। কখনও কোনো কাজে লেগে যাবে।   অমৃত নগর জমিদারবাড়ি     অতুল কৃষ্ণ রায় চৌধুরীর জমিদার বাড়ি (বর্তমানে মৈশান বাড়ি নামে পরিচিত)     অভিমন্যুর জমিদার বাড়ি     অলোয়া জমিদার বাড়ি প্রায় ১৮০০ শতকে জমিদার সচী নাথ রায়…

  • ভাষাগত বাঙালিয়ানা : শেষ পর্ব

    ভাষাগত বাঙালিয়ানা : শেষ পর্ব

    বর্তমান বাংলা গদ্যধারার সাথে বাঙালির নাড়ির সম্পর্ক নেই। নাড়ির ভাষাটা কই গেল? সেটা ‘মুসলমানি বাংলা’ নাম ধারণ করে ‘গদ্য হিসেবে’ পরিত্যক্ত হল। কিন্তু পদ্য হিসেবে আরও একশ বছর টিকেছিল সেই বাংলা। যাকে আমরা ‘দোভাষী পুঁথি’ বা ‘বটতলার পুঁথি’ নামে চিনি। যদিও এতে সংস্কৃতায়নের প্রতিক্রিয়ায় আরবি-ফারসি শব্দের বাহুল্য ছিল। ৩০-৪০% ফার্সি শব্দ ছিল এতে। (ছবিতে) মানুষের…

  • ভাষাগত বাঙালিয়ানা : পর্ব ৫

    ভাষাগত বাঙালিয়ানা : পর্ব ৫

    এবার একটা গল্প শোনাই। ডাকাতে আমাকে অপহরণ করে দাস বানিয়ে দিল। আমার তল্পিতল্পা ঘাঁটতে গিয়ে সেই হারামী আমার দাদার দাদার এক পুরনো ছবি খুঁজে পেল। সে সিদ্ধান্ত নিল: এটা আমার বাপের ছবি। এবং আমি দেখতে যেমন, আমার এই চেহারাটা আসলে ভুল। আমার চেহারাটা আমার বাপের সাথে (আসলে আমার দাদার দাদা) মিল খাওয়া দরকার। তাই সে…

  • ভাষাগত বাঙালিয়ানা : পর্ব ৪

    ভাষাগত বাঙালিয়ানা : পর্ব ৪

    উপনিবেশপূর্ব বাংলা ভাষা: তের-চৌদ্দ শতক বাংলা ভাষার গঠন যুগ তথা স্বরূপ প্রাপ্তির যুগ। ১৪শ/১৫শ শতকে মুসলিম শাসনামলে ফারসি রাজভাষা হওয়ায় এবং এর বিশেষ মর্যাদার কারণে বাংলায় স্থান পায় প্রচুর ফার্সি শব্দ। সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, সুকুমার সেনের মতো বিদগ্ধ ভাষাতাত্বিকদের মতে বাংলা ভাষায় কমবেশি আড়াই হাজারের মতো আরবি ফার্সি শব্দ আছে। ভাষার স্বাভাবিক নিয়মে ক্রমে…

  • ভাষাগত বাঙালিয়ানা : পর্ব ৩

    ভাষাগত বাঙালিয়ানা : পর্ব ৩

    মধ্য বাংলার যুগ: আসল ঠিকাদার ১৩ শতকের শুরুতেও আমরা অপরিণত বাংলা (প্রোটো-বাংলা) পাই কথ্য ভাষা হিসেবে। সেন আমলে দমন পীড়নের মাঝেও কারা সে ভাষা টিকিয়ে রাখল দেখা যাক। ডক্টর নীহাররঞ্জন রায়ের ভাষায়, “ইসলামের প্রভাবে প্রভাবান্বিত কিছু লোক বাংলার কোথাও কোথাও সেই প্রাকৃতধর্মী সংস্কৃতির ধারা অক্ষুন্ন রেখেছিলেন।” [ সুত্র : নীহাররঞ্জন রায় – বাঙালীর ইতিহাস, আদিপর্ব,…

  • ভাষাগত বাঙালিয়ানা : পর্ব ২

    ভাষাগত বাঙালিয়ানা : পর্ব ২

    উদ্ভবের সময় থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাকে তিনটি ঐতিহাসিক পর্যায়ে ভাগ করে দেখা হয়: প্রাচীন বাংলা: প্রাচীন বাংলার নিদর্শন যে চর্যাপদ, সেটা আসলে বাংলা ভাষা কিনা তা নিয়েও বিতর্ক আছে। অনেক পণ্ডিত বলেছেন, এটা আসলে বাংলা-ই না। আসলে চর্যার পদগুলো বিভিন্ন অঞ্চলের কবিদের দ্বারা লিখিত। এবং তাদের লেখায় তাদের নিজেদের অঞ্চলের ভাষারূপ বা উপভাষার প্রভাবই পাওয়া…